আজ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, বৃহস্পতিবার, ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৭ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ৭:১০
সর্বশেষ সংবাদ

নীল তিমির নষ্ট প্রেম


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/১৪/২০১৭ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,প্রধান সংবাদ,বিশেষ প্রতিবেদন


বলা হয়, প্রচারেই প্রসার। সম্প্রতি ব্লু হোয়েল ইন্টারনেট সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক খেলাটি বেশ আলোচিত হচ্ছে।অনেকে বলছেন, এটি নিয়ে যত আলোচনা হবে ততই এর প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে।প্রাকৃতিক ভাবেই তরুনদের নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি।তবে ঘটনার আরেক দিকটাও আছে, সঠিকভাবে জানা বা ধারণা না থাকলে তরুন কিশোর ভাইরা সতর্ক হবে কিভাবে ? বলে রাখি- এমন বিষয়ে আগ্রহ না থাকাই ভালো যেখানে নিজের ক্ষতি নিশ্চিত, বিনিময়ে কোন উপকার নেই।যেখানে ব্লু হোয়েল খেলাটিতে বলা হচ্ছে জেনেশুনে আত্মহত্যা করা, সেখানে আগ্রহ থাকবে কেন ?

গেমটি আবিস্কার করেছে ‘ফিলিপ বুদেকি’ সে বলছে, যাদের এই সমাজে কোনো দাম নেই, হতাশ এবং নিজের প্রতি কোন ভরসা নেই তাকে সে আত্মহত্যার মধ্যেদিয়ে এই পৃথিবী বিতারিত করতে চায়। সত্যি যদি কেউ এমন থাকে তাহলে তাকে গেম খেলে আত্মহত্যা করতে হবে কেন ? তার তো চিকিৎসা দরকার। দেশে কি মনোরোগ চিকিৎসকের অভার যে তার গেম খেলে মরতে হবে ? সে সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে আমদের মাঝে, আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাবো নতুন ভবিষ্যতের দিকে।জীবনের প্রতি ধাপই এক একটি শিক্ষা,এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

মনোবিজ্ঞানীদের ধরণা,পরিবারে পরস্পর যোগাযোগ না থাকার কারনেই ইন্টারনেট ভয়াবহ আকার ধারণ কছে ।আগে যেমন বলা হতো- পাশের ফ্লেটে কারা বসবাস করছে তা আরেক ফ্লেটের মানুষ বলতে পারবেনা। এখন আরেক ধাপ এগিয়ে বলা হয়,পাশের রুমে নিজের ভাই বা বোন কি করছে তা বলার ক্ষমতা অন্য ভাই বোনের নেই । সবাই যার যার মত মোবাইল বা ল্যাপটপে বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে ।তারুন্যের সময় যে ছেলে বা মেয়েটি ঝুকিপূর্ন, এবং হীনমন্যতায় ভোগে এবং মনে হতাশা এবং আত্মসন্মানের ঘাটতি রয়েছে তাকেই এই গেমগুলো টার্গেট করে । কারণ যারা এই ব্লু হোয়েলের মত গেমগুলো তৈরি করে তারা যানে ঐ হতাশাগ্রস্থ ছেলে মেয়েগুলোর মস্তিষ্ককে কিভাবে দক্ষল করতে হয়। মানুষের উৎসাহ, আকাংখা, চাহিদা, যে লক্ষ্যের দিকে টেনে নিয়ে যায়- তার যে অন্তরগত খোঁজ তা কিভাবে দক্ষল করতে হয় তা সে জানে। তাই পরিবারে পরস্পর যোগাযোগ এবং খোলামেলা কথা বলা, বাবা মা তার ছেলেমেয়েকে বুঝিয়ে বলা কোথায় যাচ্ছে, একটু মাথায় হাত রাখা একটু বুকে টেনে নেওয়া এগুলো অনেক বড় ভুমিকা রাখে এই ভয়াবহ খারাপ দিক গুলো খেকে রক্ষা পেতে।

বিষয়টি কি এমন, ব্লু হোয়েল গেমটাই শুধু ক্ষতিকারক ? এমন অনেক খেলা ইন্টারনেটে আছে যা মস্তিস্কে এবং শরিরে ব্যপক প্রভাব ফেলছে। ব্লু হোয়েল আলোচনায় এসেছে কারণ এর প্রভাব দৃশ্যমান এবং দ্রুত।আমরা ছোট বাচ্চাদের মোবাইলে কেক কাটার নামে হাতে ছুরি তুলে দিচ্ছি।কিশোররা কম্পিউটার মোবাইলে বন্দুক-ট্যাঙ্ক – হেলিকপ্টার দিয়ে মানুষ খুন করছে সমানে।ছোট থেকেই হয়ে উঠছে সহিংস।শিখছে কার্টুনে মুখ ভাঙ্গানো খেলা।পাখি শিকারের নামে বন্দুক চালাচ্ছে।এই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ওই ছাদে পরছে।আমাদের বাবা মা নিজেদের একটু বিশ্রামের জন্য এই সব হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে বাচ্চাদের হাতে।

দয়া করে কেউ আগ্রহ থেকে ভুল করেও ব্লু হোয়েলের মত খেলায় হাত লাগাবেন না।এটা শুধুমাত্র একটি ব্লেকমেইল গেম ছাড়া আর কিছুই না। এরা প্রথম থেকেই  আকর্ষনীয় নানা বিষয়ের মধ্যদিয়ে অংশগ্রহনকারীর নানা প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে নেয়। ধাপ যত এগোয় ততই অংশগ্রহনকারীকে একান্ত সব তথ্য আর ছবি দিতে হয়, যা অংশগ্রহনকারীর মাথাতেই আসে না ।একসময় যখন অংশগ্রহনকারী খেলা থেকে বের হয়ে আসতে চায় তখন ওই তথ্য আর ছবিগুলো দিয়েই ব্লেকমেইল করা হয়।যার শেষ পরিনতি হয় আত্মহত্যা।বিশ্বে প্রায় হাজারখানেক প্রান চলে গেছে এই খেলার আগ্রহ থেকেই।

এখন কথা হলো,ইন্টারনেটের খারাপদিক থেকে মুক্তি পেতে আমরা শুধু বাবা মাকেই দোষ দিয়ে যাচ্ছি। এই বয়সে শিশু কিশোর তরুণরা কি শুধু বাবামার কাছেই থাকে ? তারা স্কুলেও যায় বিকেলে খেলতেও যায়, মসজিদের যায়, বন্ধুদের সাথেও আাড্ডা দেয় । শুধু বাবা-মার খেয়াল রাখায় কি আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে ? টেককেয়ার করতে হবে সবাইকেই ।স্কুলের শিক্ষক থেকে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সে ছেলে মেয়ে যদি স্মার্ট ফোন বা এনড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে তাকে নিষেধ করতে সমস্যা কথায় ? টেকনোলজীর ব্যবহার অবশ্যই গুরুত্বপুর্ন কিন্তু সেটারও একটি বয়স আছে।আগে টেকনোলজী বুঝতে হয়,কেন তার ব্যবহার জানতে হয়।না শিখেই কেউ প্লেন চালাতে পারে না। আর এজন্যই আমাদের কিশোর-তরুনরা প্রযুক্তির ভাল দিক না দেখে খারাপ দিকটাই বেশি বেছে নিচ্ছে।

আমরা সন্তানকে যেসব শিক্ষা দেই, হাঁটতে শিক্ষাই, খাবার কিভাবে খেতে হয় শেখাই, কাপড় কিভাবে পড়তে হয়, কিভাবে কথা বলতে হয় তাও শিক্ষা দেই ।তাহলে ইন্টারনেট ছাড়া যেহেতু বর্তমান বিশ্ব চিন্তাই করা যায় না সেটাকি আমরা নিজের সন্তানকে শিখাচ্ছি ? এখানে সমাজই বা কি ভুমিকা রাখছে ?

যে সন্তানটি প্রেম শিখছে পর্নোগ্রাফি দেখে, সামাজিকতা শিখছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে, খেলাধুলা বুঝতে শিখছে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে। তার কাছে ভবিষ্যৎ কি আশা করতে পারে, তা কি এখনো ভাবার সময় আসেনি ?

লিখেছেন- হাসান আল বান্না; প্রযোজক,নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন। 

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Pin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Tumblr0Email this to someonePrint this page

Comments

comments

Close