সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাস প্রথমবারের মতো গ্রিসে বাংলাদেশের বাউল সংগীত সন্ধ্যা

প্রথমবারের মতো গ্রিসে বাংলাদেশের বাউল সংগীত সন্ধ্যা


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: 11/18/2017 , 3:12 am | বিভাগ: প্রবাস


ভোরের খবর ডেস্ক- গ্রিস প্রবাসীদের অতিপ্রিয়, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন এথেনস্থ দোয়েল একাডেমিতে প্রথম বারের মতো বাংলা সংগীতের প্রাণ বাউল সংগীতের আয়োজন করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় সাংস্কৃতিক সংগঠন দোয়েল গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিদের চিত্তবিনোদনের জন্য সফলভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া তার পত্নী মিসেস সায়লা পারভীন, দূতাবাসের কাউন্সেলর ড. সৈয়দা ফারহানা নূর চৌধরী, দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দোয়েলের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা বাউলের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থেকে দর্শক-শ্রোতাদের অনেক গান উপহার দেন। কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে যন্ত্র শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় দোয়েল একাডেমিতে এক অভাবনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রিসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এই বিশেষ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি বিশেষ শাখা হচ্ছে সঙ্গীত, আর লৌক সঙ্গীত বা বাউল সঙ্গীত তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষ তার আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায়। এই চর্চা ক্রমাগত এবং বারংবার করার প্রয়োজন মানুষের চেতনাকে শানিত করার জন্য। দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশের এই সংস্কৃতিকে ছাড়িয়ে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের মাঝে, ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রিসবাসীর মধ্যে। সংস্কৃতি চর্চা পারস্পারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে, উদ্দীপিত করে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে। তিনি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টেনে এনে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান উজ্জীবিত করেছিল মুক্তিকামী বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের। যার ফলে বাঙালি জাতি অর্জন করেছিল বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতা।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলা সংগীতের ভান্ডার অফুরন্ত। এ রকম বিষয়ভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে একেক ধারার সংগীত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সঙ্গীতের সব ধারার রস আস্বাদনের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পরবর্তী সময়ে নজরুল, রবীন্দ্র, দেশাত্ববোধক, আধুনিক বিভিন্ন ধরনের বিষয় ভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি দোয়েল সংস্কৃতিক সংগঠনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। তিনি আরো বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ ধরনের বিনোদন ও সংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয়ার জন্য দূতাবাস পাশে থেকে সহযোগিতা করবে।

রাষ্ট্রদূত উপস্থিত প্রবাসীদের বলেন, পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে আপনারা সবসময় একজন করে গ্রিক নাগীরিককে সঙ্গে নিয়ে আসবেন তাতে করে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আমরা দ্রুত এদেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবো এবং দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। তিনি সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অধিক সংখ্যক নারী ও শিশুর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একতাবদ্ধ হয়ে আরো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংগঠকদের উৎসাহিত করেন।

দোয়েল সংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক (টিটু) ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিমসহ দোয়েল সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মো. আরিফুর রহমান আরিফ (সিরাজ), হাজী আহ্ছান উল্লাহ হাসান এবং সাবেক সভাপতি গোলাম মাওলা, আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে বাউল সংগীত পরিবেশন করেন, আঁখি শানু, আব্দুর রহিম, শামীম আশরাফ, আব্দুল মোতালেব, আব্দুল কুদ্দুস শিকদার, রায়হান খান, মো. শরীফ, নাজমুল হক, মিসেস ইভা হক, সাইদুল ইসলাম, খোকন আলম। মিউজিকে ছিলেন স্বপন মিয়া, মো. হোসেন খান, সিরাজ শিকদার, পাভেল রহমান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জাহিদুল হক ও আনাম হক। আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Comments

comments

Close