সর্বশেষ সংবাদ

আজ রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: 11/22/2017 , 1:10 pm | বিভাগ: বরিশাল বিভাগ,বাংলাদেশ,মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস


জাকির সিকদার,রাজাপুর(ঝালকাঠি)প্রতিনিধিঃ আজ ২৩ নভেম্বর। ঝালকাঠির রাজাপুর থানা পাকহানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজাপুর থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়। বৃহত্তর বরিশালের মধ্যে রাজাপুরে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ডেপুটি কমান্ডার আঃ হামিদ জানান, ১৪ নভেম্বরের পরে বরিশাল অঞ্চলে রাজাপুরে মুক্তিযুদ্ধ আরও তীব্র হয়। দেশীয় দোসরদের সহায়তায় পাক বাহিনী সাধারণ নীরিহ জনগনকে ধরে এনে রাজাপুর বধ্যভূমি সংলগ্ন খালের ঘাটে বেধে গুলি হত্যা করে। লাশের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদকে জাঙ্গালিয়া নদীর পাড়ে গর্ত করে জীবন্ত মাটি চাপা দেয় পাকবাহিনীর দোসর রাজাকার বাহিনী। ১৯৭১সালের ২২ নভেম্বর দিবাগত রাত ৪টায় মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে রাজাপুর থানা আক্রমন করে। শুরু হয় সন্মুখ যুদ্ধ। পরের দিন ২৩ নবেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। আব্দুর রাজ্জাক ও হোচেন আলী নামে ২জন মুক্তিযোদ্ধা এ সন্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। আহত হন কমপক্ষে ২০জন মুক্তিযোদ্ধা। এ দিনের যুদ্ধে কমপক্ষে ৩’শ মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। রাজাপুর থানা ছিল বরিশাল ৯নং সেক্টরের অধীন। সাব সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর (যুদ্ধকালীন নাম ক্যাপ্টেন ওমর)। উপজেলার কানুদাসকাঠিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি তৈরী করেন। রাজাপুর থানায় সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এ যুদ্ধে নের্তৃত্ব দেন এবং গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওমর বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত হন।
রাজাপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজাপুর প্রেসক্লাব প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও দিনব্যাপি নানা অনুষ্ঠানের কর্মসূচী গ্রহন করেছে। সকালে শহীদমিনারে ও বধ্যভূমিতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পমাল্য অর্পন,এ ছাড়া সকাল ৯টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে এক র‌্যালী বের করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। র‌্যালী শেষে রাজাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় বধ্যভুমিতে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

Comments

comments

Close