সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, শিক্ষাঙ্গন, সবিশেষ .আত্মহত্যা করতে গিয়ে ফিরে আসা এক শিক্ষার্থীর কথা !

.আত্মহত্যা করতে গিয়ে ফিরে আসা এক শিক্ষার্থীর কথা !


পোস্ট করেছেন: niher sarkar | প্রকাশিত হয়েছে: 12/30/2017 , 5:50 am | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,শিক্ষাঙ্গন,সবিশেষ


জাককানইবি প্রতিনিধিঃ

সেশনজটের সমস্যা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কিছু নয় । প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এ সমস্যা আছে । দিনকে দিন এই সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সেশনজট সহ নানা সমস্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা চাপা কষ্টে দিনাতিপাত করছেন ।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত গ্রুপগুলোতে এ জাতীয় নানা আক্ষেপ হতাশামূলক লেখালেখি দেখা যায় । এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভোরের খবরে আজ চারুকলা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ ফজলুল হক পাভেল নামের একজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পুরো লেখাটি প্রকাশ করছে । নিম্নে তার লিখাটি হুবুহু তুলেধরা হলো ।

১ সেমিষ্টার=১ বছর । সে হিসেবে শেষ ২ সেমিষ্টার…? বছরে আমার জন্য জন্মদাতা পিতার ঋণের বোঝা বাড়লো ৮০,০০০ টাকা ।আর আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলো সম্ভাবনার ১ টি বছর।হয়তো ৪র্থ ব্যাচের সাথে থাকলে আগামী বছরের মার্চেই শেষ হতো অনার্স পর্ব।আমার বাবা একজন মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী।পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।তিন ভাইয়ের খরচ মেটানো সহ সাংসারিক ঋণের বোঝা বইতে বইতে তিনি এখন মাথা নিচু করে ধীর গতিতে রাস্তা হাঁটেন।বুক ধরফর করতে করতে লেখাটি লিখছি প্রিয় স্যার।হয়তো আগামী বছর পেনশনের টাকা পুরোটাই চলে যাবে সুদ ব্যবসায়ীর পকেটে।হয়তো আগামী বছরেই একটা ছোটখাটো চাকুরীর জন্য দৌঁড়ানো শুরু করতাম।স্যার,খুব কাঁপাকাঁপা হাতে এ গ্রুপে আমার প্রথম লেখাটি  লিখছি।জানি এসবের কোন মানে হয়না।সর্বোপরি দোষ আমার ই পরিলক্ষিত হচ্ছে।স্যার খুব কষ্ট করে বেঁচে আছি।আমার বন্ধুরা যখন পরীক্ষা দিয়ে হল ত্যাগ করে তখন বুকের ভেতরে প্রচন্ড রকমভাবে মোচড় দিয়ে ওঠে।চোখ ছলছল করে ওঠে প্রতিটি দিন।মানসিক ভারসাম্য নিজের  অনুকূলে থাকে না রাত গভীর হলে।আত্মাটাকে মুক্তি দিতে খুব করে ইচ্ছে করে।সুইসাইড করার এটেম্প নিয়েছি অনেকবার।কিন্তু চারুকলায় পড়ে সেশনজট সহ শিক্ষকগনের দায়সারা মনোভাবে সুইসাইড করি প্রতিদিন।দেড় বছরে ১ সেমিষ্টার নিলেও এ নিয়ে সম্মানিত শিক্ষকগনের কোন দায় নেই।স্থায়ী নিশ্চয়তা আছে আপনাদের।আমরা অসহায় বদনে চর্মপোড়া হয়ে চাতকের মতো তাকিয়ে থাকি আপনাদের দিকে। যদি একটু দূঃখ টা বুঝেন?একটু?আমি জানি আপনারা সততার কারনে  আমাদের সবার মনে অনন্য উচ্চতায় আছেন এবং থাকবেন।কিন্তু বিভাগীয় প্রধান স্যার,আমার মতো একজন অনিয়মিত, চারু চর্চাহীন,অন্যমনস্ক সন্তান কে একটু কড়া শাসনে শেষবারের মতো কৃপা করে পার করে দিলে খুব করে বেঁচে যেতাম।কিন্তু জেদ বশত কারনে বারবার পা ধরার পরেও আপনি দূর্গ্রহের মতো আচরন করে দূরে ঠেলে দিয়েছেন অফিস সহকারীকে দিয়ে।আপনারা এক্সটার্নাল ও প্রশাসনিক ঝামেলা অযুহাত দেখিয়ে বলেন আমাদের ধৈর্য ধরতে,কাজ চলছে।অচিরেই হয়ে যাবে।আমরা তোমাদের ভালোই চাই।স্যার আমাদের যদি ভালোই চাইতেন,যদি নিজ স্বার্থের কথা চিন্তা না করতেন তবে এসব করতে পারতেন না।বয়স টা ২৬ এ চলছে  চাবুক চাপকানো ঘোড়ার মতো,আমি বা আমরা বুঝি সমস্যা টা কার বা কোথায়।

পুরোপুরিভাবে আপনাদের জন্যই আজকে চারুকলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন হিরোশিমার মতো।আপনারাই দায়ী।

যদি উদাহরন টানতে বলেন তবে আমি বিবিএ এর উদাহরন টানতে পারি,বাংলা,পাবলিক এডের উদাহরন টানবো।ওইসব ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে যাচ্ছে শুধু ওই ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষকদের চূড়ান্ত প্রশংসনীয় চিন্তাধারা ও তাদের দায়িত্বজ্ঞানের কারনে।তারা সব পারেন।আপনারা পারেন না।

জানেন স্যার? প্রতিরাতেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।আর্তনাদে বুক ফেটে সব বের হয়ে যেতে চায়।আত্মহত্যা পাপ না হলে এই দু মাসে বিষ খেয়ে পরিবার সমাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে মুক্তি নিতাম।কিন্তু যে প্রাণ অর্ধকোটি ভ্রূনের সাথে যুদ্ধ লড়াই করে জয়ী হয়েছে সে প্রাণ হারবে না কোনদিনও।

একটু দয়া চেয়ে অবাধ্য এই সন্তান আপনার পাণিপ্রার্থী হয়েছে বহুবার।ক্ষমাশীল,পরম শ্রদ্ধেয় পিতা হয়ে আপনি ইচ্ছে করলেই একটা শেষ সুযোগ দিতে পারতেন শেষবারের মতো আমাকে মেলে ধরার।সব শেষ হয়ে গেছে আমার।সব।সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পরিবার থেকে।

পরিবার সহ সব কিছু থেকেই  বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এখন আমি। আমি সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই মাননীয় বিভাগীয় প্রধান ও সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগন কে পদস্পর্শ অনুরোধ করছি,আমার মতো সকল মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে ও পরিবারের কথা ভেবে শেষ সুযোগ হিসেবে সেশনজট নিরশনে প্লিজ একটু মূল্যায়ন করবেন।তবে হয়তো আমি কিংবা আমরা বর্তমান অনিশ্চিত  জীবনে সঠিক সময়ে ঘুরে দাঁড়াবার একটু সাহস ফিরে পাই।

 

Comments

comments

Close