সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, বিভাগীয় সংবাদ পাবনায় শক্ত অবস্থানে আ’লীগ, বিএনপিতে গ্রুপিং

পাবনায় শক্ত অবস্থানে আ’লীগ, বিএনপিতে গ্রুপিং


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: 09/07/2018 , 7:55 am | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,বিভাগীয় সংবাদ


পাবনায় সংসদীয় আসন রয়েছে ৫টি। বর্তমানে ৫টি আসনই রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। গতবারের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে ৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর বাকি দু’টিতে ভোটে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির নেতারা কারাবরণ করায় আর কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্দোলনের ঢেউ তৃণমুলে সেভাবে না পড়ায় অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়ে বিএনপি। সেই সুযোগে মাঠ নিজেদের দখলে রেখে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে ক্ষমতাসীনরা। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পাবনা আসন

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান বেশ শক্ত। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির পর এই আসনে জয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে জামায়াতের ভোট ব্যাংক। এই আসনে ভোটার সমর্থন হিসেবে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত।

২০১৪ সালের নির্বাচন বাদে সর্বশেষ ৪টি সংসদ নির্বাচনে দল দু’টি জয় পায় দুইবার করে। বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের হলেও উপজেলা চেয়াম্যানসহ সাঁথিয়া উপজেলার ৩টি পদই রয়েছে জামায়াতের দখলে। শক্ত অবস্থান থাকার পরও ১৯৯৬ সালের পর পাবনা-১ আসনে বিএনপির কেউ প্রার্থী হতে পারেননি।

তথ্য মতে, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নিজামী ও বিএনপির মেজর (অব:) মঞ্জুর কাদেরকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

২০০১ সালে আসন পুনরুদ্ধার করে জামায়াত। আবু সাইয়িদকে হারিয়ে জয় পান চারদলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নিজামী। ২০০৮ সালে সংস্কারপন্থী হিসেবে বহিস্কৃত হন আবু সাইয়িদ। ফলে নৌকার নতুন মাঝি হয়ে অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু জামায়াতের আমির নিজামীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন খান।

এদের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন পাবার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী ও জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন খান।

আর জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের নাম ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে জেলা জামায়াত।

এছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্র কমিটির সহ-সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় তাঁতি কমিটির সভাপতি সরদার শাহজাহান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে, নৌকার মাঝি হতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন বর্তমান সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সরদার সোহেল মাহমুদ। তবে মনোনয়ন দৌঁড়ে শামসুল হক টুকু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এগিয়ে রয়েছেন। ইতিমধ্যে এই শীর্ষ দুই নেতা ও তার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

পাবনা আসন

পাবনার সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত পাবনা-২ আসন। ১৯৯১ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের আহম্মদ তফিজ উদ্দিনকে হারিয়ে জয় পায় বিএনপির প্রার্থী ওসমান গণি খান। ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫শ’ ভোটের ব্যবধানে নৌকার তফিজ উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন ধানের শীষের ওসমান গণি।

২০০১ সালে দুই দলেরই প্রার্থী পরিবর্তন হয়। সেবার আওয়ামী লীগের মির্জা আব্দুল জলিলকে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। ২০০৮ সালে নৌকার নতুন প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের কাছে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হেরে যায় বিএনপির সেলিম রেজা হাবিব।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আজিজুল হক আরজু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক পরিবর্তনের আশায় এবারও মাঠে নেমেছে একাধিক নেতা। মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন- বর্তমান সাংসদ আজিজুল হক আরজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা জলিল, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাঈদুর রহমান।

তবে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন আহমেদ ফিরোজ কবির ও ড. মির্জা জলিল। বর্তমান সাংসদ আজিজুল হক আরজু’র অবস্থা নাজুক বলে জানা গেছে।

অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মাঠে নেমেছে বিএনপির একাধিক নেতা। প্রার্থী হতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হালিম সাজ্জাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিন, পাবনা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের সভাপতি ও সুজানগর উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, সুজানগর থানা বিএপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম হোসেন মন্ডল।

তবে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন সেলিম রেজা হাবিব, আব্দুল হালিম সাজ্জাদ ও অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হবেন জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মধ্যে।

পাবনা আসন

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদল বিএনপির নবীন-প্রবীন মিলে দুই ডজন নেতা তৎপর রয়েছেন। ভোট যুদ্ধে নামতে সবাই চাইছেন দলীয় প্রতীক। আওয়ামী লীগ চাইছে আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার।

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমুল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সাথে পরিচিতি ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

তথ্য মতে, ১৯৯১ সালে বিএনপির বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজি উদ্দিন খান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সেসময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কে এম আনোয়ারুল ইসলাম।

২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম জয়ী হন। সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মকবুল হোসেন। আগেরবার হেরে ২০০৮ সালে জয়ের মুখ দেখেন জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে আসা মকবুল হোসেন। সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আযম। ২০১৪ সালেও জয়ী হন মকবুল হোসেন। তবে বিএনপি জোটের বর্জন করা ওই নির্বাচনে ভোট নিয়ে প্রতিপক্ষের ছিল নানা অভিযোগ।

এ আসন থেকে আবারও প্রার্থী হতে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি মকবুল হোসেন। এছাড়া নৌকার মাঝি হতে জোড় প্রচার চালাচ্ছেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাষ্টার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম পাকন, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আলম, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আশরাফুল কবীর, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ।

অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাতেও আছে অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। ধানের শীষের প্রার্থী হতে কেন্দ্রে তদবির চালাচ্ছেন এমন নেতাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম, জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসানুল ইসলাম রাজা, তার ভাই চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, পাবনা বারের সাবেক সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হাবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল।

এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেই রয়েছে কোন্দল ও গ্রুপিং। দীর্ঘদিন ধরে এই কোন্দল চলে আসলেও কেন্দ্র থেকে কিংবা জেলা থেকে নিরসনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে দিন দিন বেড়েছে কোন্দলের ব্যাপকতা। তাই যে দল দ্রুত কোন্দল মিটিয়ে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে তার পক্ষে ঐক্যদ্ধভাবে কাজ করাতে পারবে জয় তার পক্ষে ততটাই সহজ হবে বলে মনে করছে নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

পাবনা আসন

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ সংসদীয় আসন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান ও জামায়াতের মাওলানা নাসির উদ্দিনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার।

১৯৯৬ সালে আসনটি দখল করে আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। সেবার বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার ও জামায়াতের মাওলানা নাসির উদ্দিনকে পরাজিত করেন তিনি। এরপর একাধারে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচিত হন বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ। ২০১৪ সালে অবশ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমি মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ আসন থেকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছে তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা। তারা বলছে, মনোনয়ন চাওয়া ও জয়ী হওয়ার মতো শক্ত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তার। তবে এ বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী নেতাকর্মিরা ভিন্ন মত পোষন করেছেন।

তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী হবার পর ঈশ্বরদীতে নিজ দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরির পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে। পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন, দলের নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করতে পারেননি। সর্বশেষ নিজ জামাতা ও ছেলের মধ্যে বিভাজন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ওঠে নিজ দলের মধ্যেই। তাই এবারের নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায় ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ।

এই সুযোগ পেতে নৌকার প্রার্থী হতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু, মন্ত্রীর জামাই ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।

অপরদিকে বিএনপিতে এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও বিএনপি নারী নেত্রী ললিতা গুলশান মিতা।

এর বাইরে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও জাতীয় পার্টি থেকে উপজলো জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।

পাবনা আসন

সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৫ আসন বা সদর আসন। পাবনার রাজনীতিতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনটি আওয়ামী লীগ, বিএনপির ও জামায়াত তিন দলেরই রয়েছে ভালো ভোট ব্যাংক। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম বকুল ও বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল আহসানকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সোবহান।

১৯৯৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম বকুল। পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এ কে খন্দকার ও জামায়াতের মাওলানা সোবহানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির রফিকুল ইসলাম বকুল।

২০০০ সালের নির্বাচনে বিএনপির রফিকুল ইসলাম বকুল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ১৪ দল থেকে জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সোবহানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে সাংসদ হন। ২০০৮ সালে মাওলানা আব্দুস সোবহানকে হারিয়ে চমক দেখান আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক প্রিন্স। ২০১৪ সালে তিনি আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।

বকুলের মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে জোটগত জামায়াত প্রার্থী আর আওয়ামী লীগের মধ্যে। এ আসন থেকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান নিজদল ও জোট থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জামায়াত মনে করে এই আসনটি সারাদেশের মধ্যে জামায়াতের অন্যতম দূর্গ। ফলে জোটগত হোক আর এককভাবে হোক।

আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী আশা করেন তারা। মাওলানা সোবহান নির্বাচন করতে না পারলে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের কোনও নেতাকে প্রার্থী করতে চান তারা। তাদের দাবি গত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইকবাল হুসাইনের পরিচিতি পেয়েছে অনেক। তাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর বাইরে নাম শোনা যাচ্ছে মাওলানা সোবহানের ছেলে নেছার আহমেদ নান্নু’র।

এদিকে বিএনপির কোনো নেতা প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাই বা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন নাই। তবে ২০ দলীয় জোটে ও এলাকার মানুষের মুখে মুখে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এর নাম। দলে প্রকাশ্য কোনো কোন্দল না থাকায় এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দুরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশংকা নেই বলেই মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। দলের অনেক নেতাকর্মী ও জোটের কতিপয় নেতাকর্মিরা নিজেদের উদ্যোগে জোটের প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন শিমুল বিশ্বাসের নামে।

বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা শোনা গেলেও সদর আসনে তেমন কারও নাম এখন পর্যন্ত মাঠে নেই। কোনও নেতাকর্মীর বিলবোর্ড বা পোস্টোর এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

একটি সুত্র জানায়, শিমুল বিশ্বাস প্রার্থী না হয়ে তার নিজের পছন্দসই কোনও প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করবেন। তবে তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় কে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হবেন তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

এদিকে সদর আসনে আওয়ামী লীগের আসন অনেকখানি শক্ত হয়ে গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন এটা নিশ্চিত। দলে প্রকাশ্য কোনও দলাদলি নাই। দলটির সিনিয়র নেতারা মনে করেন প্রকাশ্য দলাদলি বা কোন্দল না থাকায় এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দুরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশংকা নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের মনোনয়ন প্রাপ্তিকে একরকম নিশ্চিতই ধরে রেখেছেন তারা। তবে প্রিন্সকে খালি মাঠে গোল দিতে নারাজ দলের কিছু তরুণ ও প্রবীণ নেতা। নৌকার মাঝি হতে চেষ্টা করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সাবেক ভিপি খ ম হাসান কবির আরিফ। তবে সাধারন নেতাকর্মিরা প্রিন্সের বিকল্প কাউকে ভাবছে না বলে আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে পাবনায় একেবারে নিষ্প্রভ জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কদর।

সূত্র- পূর্বপশ্চিম

Comments

comments

Close