সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ ‘আজ পাকিস্তানিরাও বলছে, এদেশকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও’

‘আজ পাকিস্তানিরাও বলছে, এদেশকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও’


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: 09/07/2018 , 11:05 am | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। যে পাকিস্তানিদের আমরা যুদ্ধে হারিয়েছি, আজ সে পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবিরাও বলছে, আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।

শুক্রবার বিকালে গণভবনে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খণ্ডে প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পারেনি। দিন যতই যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস ততো সমৃদ্ধ হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

তিনি বলেন, বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু সংগ্রাম করে গেছেন। তার সংগ্রাম ছিল এ দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল সে বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বার বার জেল খেটেছেন, বারবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল এই দুই বছরে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খণ্ডে প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হলো। তারা বঙ্গবন্ধুর চলাফেরা, গতিবিধির বিপক্ষে যে সমস্ত নোট দিয়েছেন সেগুলো সমৃদ্ধ করে বই প্রকাশ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত আমরা বাকি খণ্ডগুলোও প্রকাশ করতে চাই। এ প্রকাশনার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা শুধু ভোগের জন্য নয়, ক্ষমতা ত্যাগেরও বিষয়। মানুষের জন্য দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই মূল বিষয়। বাংলাদেশ ২১০০ সালে কেমন হবে সেটা মাথায় রেখে আমরা ১০০ বছরের পরিকল্পনা করছি। যে গতিতে বাংলাদেশ এগুচ্ছে তাতে আগামী ৪১ সালে এই বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বাস করি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা। বঙ্গবন্ধুর ছাট মেয়ে শেখ রেহেনা, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ছিলেন অনুষ্ঠানে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইিজপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি, সিনিয়র সাংবাদিক ও নানা শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

Comments

comments

Close