সর্বশেষ সংবাদ
খুলনা বিভাগ, জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফেসবুক থেকে মানুষ যখন তার কৃতকর্মের স্বীকৃতি পায়,তখন নব উদ্যোমে আরও নতুন কিছু করার চেষ্টা করে

মানুষ যখন তার কৃতকর্মের স্বীকৃতি পায়,তখন নব উদ্যোমে আরও নতুন কিছু করার চেষ্টা করে


পোস্ট করেছেন: Staff Reporter | প্রকাশিত হয়েছে: 07/23/2019 , 9:53 am | বিভাগ: খুলনা বিভাগ,জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ,ফেসবুক থেকে


আজ রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য ২০ বিশ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং আজ জনপ্রশাসন পদক প্রদান করা হযেছে। এতো বড়ো সুসংবাদ শুনে /জেনে একটু না লিখে পারলাম না। মানুষ যখন তার কৃতকর্মের স্বীকৃতি পায়, তখন নব উদ্যোমে আরও উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আগ্রহ নিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মকালীন সময়ে এই কাজটি শুরু করা হয় বিশেষ প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে। বাংলাদেশ ও ভারত এর মধ্যে প্রবাহমান ইছামতী নদী, এই নদীর বাংলাদেশের অংশে ভাঙনের ফলে ভেড়ী বাধ ভেংগে দেবহাটা উপজেলার কিছু অংশ প্রতি বছর প্লাবিত হয়। যার ফলে মানুষের ঘর বাড়ি, ক্ষেত খামার সহ ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর বিশেষ করে এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ঘের করে, তারা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়। এর থেকে দেবহাটাবাসী কিভাবে স্হায়ী পরিত্রাণ পাবে ……..সে পথ বের করার মাধ্যম হিসেবে আজকের এই রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রের সৃষ্টি। চিন্তাটা এমন ছিল এক ঢিলে দুই পাখি মারা। ভেড়ী বাধ খুব ভালো ভাবে মজবুত করে দেয়া, যাতে আর ঐ এলাকা প্লাবিত না হয় এবং এই ভেড়ী বাধ ব্যবহার করে সুন্দরবনের আদলে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র সৃষ্টির কাজ শুরু করা ।

আজকের রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র টির সৃষ্টির/শুরু করার ইতিহাস নিয়ে সাতক্ষীরার দৈনিক ” সাতক্ষীরা বার্তা “য় প্রকাশিত রিপোর্ট নিম্নরূপ …………..

বাংলাদেশ-ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারনী ইছামতি নদীর ভাঙন রোধকল্পের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম তরিকুল ইসলামের দুরদর্শি সিদ্ধান্ত এবং তার সাহসী উদ্যোগে শিবনগর এলাকায় ইছামতির তীর ঘেষে লবনাক্ততা সহনশীল বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের সারিবদ্ধ কয়েক হাজার চারা রোপনের মাধ্যমে প্রথমে ৩১.৪৬ একর জমিতে সুন্দরবনের আদলে সৃষ্টি করা হয় রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি..। তবে এই কাজটি করা সহজ ছিলো না। প্রায় ১০০ বিঘা সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা এবং ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র সৃষ্টির কাজ শুরু করা …কেবলমাত্র তার মতো সাহসী ও দক্ষ অফিসার এর পক্ষেই সম্ভব!

আজ আমি এই পর্যটন কেন্দ্রটি নিয়ে একটু লিখছি কারন সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি কর্মরত ছিলাম এবং এটা সৃষ্টির কাজ শুরু ও ঐ সময়। রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য সদাশয় সরকার ২০( বিশ) কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থাৎ আমাদের সিদ্ধান্তটি /এই কাজটি করা সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর আজ জনপ্রশাসন পদক গ্রহণ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দেবহাটা।

যে কোন কাজ করতে হলে অবশ্যই কেউ বা কেউ নেতৃত্ব দিবে, এটা খুবই স্বাভাবিক, সেই হিসেবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নেতৃত্বে স্হানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সুশীল সমাজ ও স্হানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় কাজটি করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেবহাটা বাসীর সার্বিক সহযোগিতা না থাকলে এটা সৃষ্টি করা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। কারণ যে জায়গার উপর এটা সৃষ্টি করা হয়েছে, সম্পুর্ন জায়গা নদীর চর, সেটা সরকারি জায়গা এবং সম্পুর্ন জায়গা ছিল অবৈধ দখলে। বাংলাদেশের বহু জায়গায় এমন সরকারি বহু সম্পত্তি বেদখল রয়েছে কিন্তু দখলমুক্ত করতে পারছে না, তবে এক্ষেত্রে দেবহাটাবাসী (সকল শ্রেনীর, সকল পেশার লোক) ঐ ভুমি দখলমুক্ত করতে সবাই আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছায় কাজ করেছে, এই জন্য আমি মনে করি সফলতার অংশীদার মুলতঃ তারাই, আমি সেখানে উছিলা মাত্র। তবে এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এ্যাড স,ম গোলাম মোস্তফা।

আমি দেবহাটা উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ২ জন শ্রদ্ধাভাজন জেলা প্রশাসক মহোদয় এর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি জনাব ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্যার ও জনাব নাজমুল আহসান স্যার , দুই জনই এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন। এক জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পর্যটন কেন্দ্রটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সাতক্ষীরায় তার সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের আস্তাভাজন ও জনপ্রিয় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন জনাব ড.মুহঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্যার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ভাবী, জর্জ ভাবী সহ অন্যান্য ভাবীবৃন্দ। উদ্বোধনের দিন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাদের পরিবারসহ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ সহ অন্যান্যদের দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন সহ বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সে সময়ের কয়েকটি ছবিও পোস্ট করলাম।

সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত আরও একটা দৈনিক পত্রিকায় কোড করেছে ……. জনাব আ,ন,ম তরিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র। মাত্র কয়েক বছরেই গড়ে ওঠা বনটি নদী ভাঙন রোধ করে পরিবেশের ভারসম্য রক্ষার সাথে সাথে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মানুষের বিনোদনের খোরাকও জুগিয়ে আসছে ! বিনোদন প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি।

অনেক শ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র টি গড়ে উঠে। একটি প্রতিষ্ঠান করতে কত শ্রম, কত কষ্ট, কত ত্যাগ ও কত সময় ও অর্থ দরকার হয়, তা সবাই কম বেশি অবগত। আর যে কোনো কিছু করতে দরকার হয় অর্থের, কোনো সরকারী বরাদ্দ ছাড়া এটি সৃষ্টির কাজ শুরু করা হয় । তবে ভালো কোন কাজ শুরু করলে , আর যদি সেখানে স্বচ্ছতা থাকে তাহলে কাজটি করা খুব একটা কঠিন হয় না…. তার একটি দৃষ্টান্ত এই ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি ।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারও চেষ্টা করছে এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য। পূর্বের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ অনেক পরিশ্রম করে এটিকে এগিয়ে নিয়েছে। সে প্রবেশের জন্য টিকেট এর ব্যবস্হা করেছে । আর যেহেতু সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তাহলে একেবারে পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে আর কোনো সমস্যা হবে না। অচিরেই এটা পুর্নাংগ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

পরিশেষে যেহেতু আমি এই ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র সৃষ্টি/প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম, সেই হিসেবে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দেবহাটা এবং জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা মহোদয় এর কাছে অনুরোধ, ইছামতী নদীর তীরে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ এর দুই পাশে বহু জমি আছে, অবৈধ দখলমুক্ত করে ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র সম্প্রসারণের ব্যবস্হা গ্রহণ করা।। এখনই সম্প্রসারন করা না হলে পরে জমি পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সম্প্রসারন করা হলে রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, সর্বোপরি ভ্রমনপিপাসুদের তৃষ্ণা মিটাতে সক্ষম হবে এই পর্যটন কেন্দ্রটি, সাথে সাথে এটি করার উদ্যেশ্য ও পূর্ণ হবে এবং আমাদের কষ্ট টা ও স্বার্থক হবে।

লেখক- আ,ন,ম তরিকুল ইসলাম
উপ-সচিব ,শিক্ষা মন্ত্রনালয়।
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার,
দেবহাটা উপজেলা,সাতক্ষীরা

Comments

comments

Close