সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ ভৈরবে সাবেক এসিল্যান্ডসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভৈরবে সাবেক এসিল্যান্ডসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা


পোস্ট করেছেন: bhorerkhobor | প্রকাশিত হয়েছে: 02/23/2020 , 8:27 pm | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


প্রতারণার মাধ্যমে আদালতের রায় জাল করে বাড়ির জমি খারিজ করে নেয়ার অভিযোগে ভৈরবের সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন হাফছা সুলতানা নামে এক নারী। তিনি শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বাদল মিয়া ওরফে বেদন, জামাল মিয়া, সুফিয়া বেগম, নূর আলম, রাজু আহমেদ, আপন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ফাহিম। মামলার ৭ নম্বর আসামি আরিফুল ইসলাম ও ১০ নম্বর আসামি ভৈরব উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুজ্জামান। ভৈরব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন শনিবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাফছা সুলতানার ভোগদখলীয় বৈধ সম্পত্তির ১৫ শতাংশ জমি ৯ আসামি মিলে কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের এক ভুয়া ও মিথ্যা রায় দেখিয়ে বাদীকে নোটিশ না দিয়ে খারিজ করে ফেলে। ভৈরব ভূমি অফিসের সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামান আদালতের জাল রায়ের নকল দেখে বিবাদীদের ১৫ শতাংশ জমি তাদের নামে খারিজ করে দেন।

বিবাদীরা জমি খারিজ করে সেই জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে বাদী ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে বাদী কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৯৯১৩/১৪ নম্বরের কোনো মামলায় হয়নি এবং ভৈরব ভূমি অফিসে দাখিল করা রায়টি জালভাবে করা হয়েছে। তারপর গত বছর ঘটনাটি অবহিত করে ৩১ অক্টোবর ২০১৯ বাদী ভৈরব ভূমি অফিসে এক আবেদনে খারিজটি বাতিল করতে একটি মিসকেস করেন। তবে সাবেক এসিল্যান্ড বাদীর আবেদন পাওয়ার পরও খারিজটি বাতিল করেননি, তার অভিযোগ।

বাদীর অভিযোগ এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামান মোটা অংকের ঘুষ খেয়ে বিবাদীদের খারিজটি বাতিল করেননি। তারপর বাদী খারিজ বাতিল করতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে আপিল করলে শুনানি শেষে তাদের প্রতারণার খারিজটি বাতিল করা হয়। এরপর প্রতারণার মামলার জাল রায় ভূমি অফিসে দাখিল করার অভিযোগে বাদী হাফছা সুলতানা কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে আদালত গত তিনমাস আগে ভৈরব থানা পুলিশের ওসিকে অভিযোগটি থানায় এজাহার করে ঘটনাটি তদন্ত করতে আদেশ দেন এবং ঘটনা সত্য হলে ১০ আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদী হাফছা সুলতানা বলেন, আসামিরা এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগসাজস করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল রায় দেখিয়ে জমিটি খারিজ করে। খারিজের পর তারা কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়ার অব এটর্নী নিয়ে আমার বাড়িতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। আমার বাড়িটি অন্যদের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা করছিল তারা। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি প্রতারণার মাধ্যমে তারা জাল রায় দিয়ে একাজ করেছে। এ কারণে আমি আদালতে প্রতারণার মামলা করেছি।

এ ঘটনায় সাবেক এসিল্যান্ড মো. আনিছুজ্জামান বলেন, আদালতের রায়টি জাল কিনা সেটাতো আমি জানতাম না। জেলা প্রশাসক অফিসের নির্দেশ পেয়ে আমি খারিজটি করেছি। পরে ঘটনাটি জানার পর আমার বদলি হয়ে যায়। এ কারনে খারিজটি আমি বাতিল করতে পারিনি।

এ বিষয়ে ভৈরবের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খিসা জানান, ঘটনাটি আমি অফিসে যোগদানের আগে। কাজেই এ বিষয়ে আমি কিছুই মন্তব্য করবো না।

ভৈরব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, আদালতে আদেশে থানায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে শনিবার রাতে রেকর্ড করেছি। বিষয়টি তদন্ত করতে কয়েকমাস সময় লেগেছে। তদন্তে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়াই মামলাটি রেকর্ড করেছি। ঘটনাটি আরও সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Comments

comments

Close