সর্বশেষ সংবাদ
মহানগর করোনা মোকাবেলায় বংশাল ফাঁড়ি ইনচার্জ নুর আলমের উদ্যোগ

করোনা মোকাবেলায় বংশাল ফাঁড়ি ইনচার্জ নুর আলমের উদ্যোগ


পোস্ট করেছেন: ভোরের খবর ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 05/12/2020 , 12:02 pm | বিভাগ: মহানগর


এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার

দেশজুড়ে শুধুই করোনা আতংক আর উৎকণ্ঠা। সবখানেই বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়। আর এই বিপর্যয়ের মধ্যদিয়েও সারা দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও কাজ করে যাচ্ছেন কিছু মানবতার ফেরিওয়ালারা। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বংশালে খোজ পাওয়া গেছে এক মানবতার ফেরিওয়ালার।

অনেকেই ভাবতে পারেন পুলিশ শুধু তার পেশার দায়িত্ব পালন করছে। এটা তাদের কর্তব্য। তবে দেশেই এই মহা দুর্যোগে অনেক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন যারা তাদের ডিউটির বাইরেও প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছেন মানবতার কল্যাণে। ডিএমপির বংশাল থানার বংশাল ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর আলম তেমনই এক মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবেই পরিচিত বংশালে। প্রতিদিনই নুর আলম তার অফিসিয়াল ডিউটির বাইরেও সেবা দিয়ে আসছেন। সবাই যখন ডিউটি শেষে ফিরে যান তার পরিবার কিংবা নিজের নিরাপদ স্থানে ঠিক তখনও নুর আলমকে দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন স্থানে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে।

নিজ বেতনের টাকা খরচ করে প্রায় রাতেই রাস্তার অসহায় মানুষদের আহারের যোগান দিয়ে আসছেন বংশাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) নুর আলম। এছাড়াও প্রতি রাতেই নিজ উদ্যোগে বংশাল থানার নয়াবাজার এলাকার ফুটপাতে থাকা মানুষদের খোঁজখবর নিয়ে আসছেন তিনি। এছাড়াও রমজানের পুর্বে বেশিরভাগ সময়েই তিনি সাধ্যমত রিক্সা ও ভ্যান চালকদেরকেও ত্রান সরবরাহ করেছেন।

এদিকে চলতি মাসের ৭ মে যখন দেশের সকল মসজিদে নামাজ আদায়ে করতে বিধি নিষেধ উঠিয়ে দেয়া হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই নুর আলমকে দেখা যায় এলাকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েই মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যাস্ত থাকতে। বংশাল মকিম বাজার জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী তাঁরা মসজিদে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় নেমে পরেন তিনি। এছাড়াও মসজিদে নামাজ আদায়ের বিষয়ে বংশাল পুলিশ ফাঁড়ী এলাকার সকল জামে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমদেরকে ফোন করে খোঁজ খবর নেন তিনি।

এছাড়াও মকিম বাজার জামে মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী তাঁরা মসজিদ, চাঁদ মসজিদ, মাওলানা জামে মসজিদ, সামসাবাদ বড় মসজিদে নিজ উদ্যোগে খাবার, মাক্স, সেনিটাইজার ও ব্লিচিং পাউডার পৌছায়ে দেন নুর আলম। ইতিমধ্যে নুর আলমের কর্মকাণ্ডে তিনি যেন বংশাল এলাকার জন্য এক মানবতার ফেরিওয়ালা বনে গেছেন। করোনার প্রকোপের প্রথম দিকেও নুর আলমের ব্যক্তি উদ্যোগের ভুমিকাও কোন কমতি ছিলনা। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে ধাপে ধাপে নিজ বেতনের খরচে প্রায় কয়েক হাজার মাস্ক বিতরন করেছেন তিনি। তার এই মানবতার দৃষ্টান্ত এলাকায় এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে যে নুর আলম এখন যেন এক সময়ের হ্যামিলিয়নের বাশি ওয়ালা।

তবে কাব্য কথার বাঁশির সুর যেমন মুগ্ধ করতেন সবাইকে তেমনি নুর আলমের মানবতার দৃষ্টান্ত এখন বংশালের জন্য আকাশচুম্বী। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনার প্রাদুর্ভাবে বেশি ঝুকি বহন করছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। ইতি মধ্যে এক হাজার ছাড়িয়েছে করোনা আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা। বর্তমানে রাজধানীর অনেক এলাকাতেই পুলিশের ভুমিকা তেমন চোখে পরার মত নয় তবে বংশাল থানার দায়িত্বরত সকলকেই কম বেশি দেখা যাচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। আর বংশাল ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর আলমসহ তার সঙ্গিয়রা সব সময়ই রয়েছে সকলের তরে মানবতার সেবায় মাঠ পর্যায়ে।

বংশাল ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর আলম বলেন, মানুষের সেবা দেয়া পুলিশের দায়িত্ব। যতক্ষণ তিনি ডিউটিরত অবস্থায় আছেন তিনি ততক্ষন শুধুই পুলিশের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আর ডিউটি শেষে তিনি নিয়োজিত হন দেশের একজন সু-নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে। আর তাই তিনি মানুষ হিসেবেই মানুষের পাসে দারানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

নুর আলম আরও বলেন, প্রতিটি মানুষরই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকেই সকলে সকলের পাসে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। আর যারা ধনি ব্যক্তি রয়েছেন তাদের অবশ্যই দায়িত্ব গরীবের পাসে দাঁড়ানো।

Comments

comments

Close