সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, বিশেষ প্রতিবেদন ওয়াসার এমডি পদ টানা ষষ্ঠবারের মতো নবায়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু তাকসিম এ খানের

ওয়াসার এমডি পদ টানা ষষ্ঠবারের মতো নবায়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু তাকসিম এ খানের


পোস্ট করেছেন: ভোরের খবর ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 07/01/2020 , 8:54 pm | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,বিশেষ প্রতিবেদন


* অনিয়ম ও লুটপাটের রেকর্ড
* সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য চুরামার করে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত-ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কি এমন রহস্য রয়েছে ঢাকা ওয়াসায়। সেবামূলক স্বায়িত্বশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে সকল নিয়ম ভঙ্গ করে ২০০৯ সালে নিয়োগ পান আমেরিকান নাগরিকত্ব পাওয়া তাকসিম এ খান। এরপর ২০১২ সালে দ্বিতীয় নিয়োগ ২০১৩ সালে তৃতীয় নিয়োগ ২০১৫ সালে চতুর্থ নিয়োগ সবশেষ ২০১৭ সালে পঞ্চমবারের মতো পুন:নিয়োগ পান। যা ওয়াসার ইতিহাসে নজিরবিহীন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি মেয়াদ শেষ করার আগেই মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে এমডি পদে নিজেকে বহাল রাখেন এই ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এবারো ষষ্ঠ বারের মত পদ নবায়নে প্রভাবশালীদের দিচ্ছেন কোটি কোটি টাকার ঘুষ।

জানা যায়, তাকসিম এ খান ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেছেন এবং নাগরিকত্ব নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করতেন সেখান থেকে লবিং করে ঢাকা ওয়াসায় এমডি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যদিও ঐ সময় ওয়াসার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার কোন যোগ্যতাই ছিলনা তাসকিম এ খানের। ওয়াসার ইতিহাসে আগে কখনো পানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন অনভিজ্ঞ লোকের নিয়োগ হয়নি। পদে বসেই বেপরওয়া উঠেন তাসকিম এ খান। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একের পর এক ওএসডি এবং বরখাস্ত করে, বিএনপি-জামাতের লোকাজনদের নিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব সিন্ডিকেট।

ঢাকা শহরকে ভুমিকম্প ও অন্যান্য প্রকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা করতে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে সারফেস ওয়াটার বা ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহারের জন্য জোড় দেয় সরকার। নেয়া হয় পদ্ধা জশলদিয়া, গন্ধবপুরের মতো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট। প্রতিটি প্রজেক্টই হয়েছে লাগামহীন দুর্নীতি নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে পাইপ ক্রয়সহ প্রতিটি ফেইজে হয়েছে পুকুর চুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় পদ্মা প্রজেক্টের প্রথম প্রকল্প পরিচালক এবং ডেনমার্কের কনসালটেন্সি ফার্ম এর লোকজনকে বাতিল করে তাসকিম এ খান। পরে তার পছন্দের পিডি নিয়োগ দেন তাকসিম। তাসকিম গংদের লুটপাটে মুখ থুবরে পরে পদ্মা-জশলদিয়া পানি পরিশোধন প্রকল্প। যেখানে পানি আসার কথা ছিল দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার সেখানে পানি আসে মাত্র ১২ কোটি লিটার । তাহলে এতো টাকা গেলো কই। রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা খরচ করেও সফলতার মুখ দেখেনি কোন প্রকল্পই। সাভারে ভাকুর্তা পানি প্রকল্পেরও একই অবস্থা। তবে এসব বিষয়ে অজ্ঞাত কারণে তারা নিষ্ক্রিয় ভুমিকায় থাকে ওয়াসা পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

তাসকিম ও তার সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে ভেঙ্গে পড়েছে ওয়াসার নাগরিক সেবা। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে নেই পর্যাপ্ত পানি সরবারাহ। অনেক অঞ্চলে রয়েছে দূর্গন্ধযুক্ত পানি। তাসকিম এ খানের দূণীতির মাসুল গুনতে হচ্ছে নগরবাসী। আবারো অযৌক্তিক কারন দেখিয়ে পানির দাম বাড়াানোর পাযতারা করছেন তাসকিম এ খান।

বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। ঢাকাবাসীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারে বেশি মনোযোগ দেয় এবং সুপেয় পানি সরবারাহ করতে ওয়াসাকে দেয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট কিন্তু এমডি তাকসিমা এ খান সহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দূর্নীতির কারণে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

Comments

comments

Close