সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, ফেসবুক থেকে প্লাবনের বিরুদ্ধে পারুলের সাজানো মামলা: মুখোশ উন্মোচিত

প্লাবনের বিরুদ্ধে পারুলের সাজানো মামলা: মুখোশ উন্মোচিত


পোস্ট করেছেন: ভোরের খবর ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 07/04/2020 , 8:13 pm | বিভাগ: জেলা সংবাদ,ফেসবুক থেকে


নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারের ভার আপনার উপর

সত্যের আলামত কখনই নষ্ট করা যায় না। গত ৫মে চিলমারীতে প্লাবনের বাসার সামনে পারুলের আসা ও সেখানকার ঘটনা সম্বলিত একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটি ঘটনার দিনই সাংবাদিকতার হুমকি দিয়ে ভিডিওধারনকারীর মোবাইল থেকে ডিলেট করে দিয়েছিল মেয়ের সাথে আসা এক সাংবাদিক। পরে মোবাইলের ‘রিসেন্ট ডিলেট অপশন’ থেকে তা উদ্ধার করা হয়। ভিডিওটি মাধ্যমে পারুলের নিখুঁত মিথ্যাচারে সাজানো নারী নির্যাতন মামলার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

১১মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, রেজাউল করিম প্লাবনের কুড়িগ্রামের চিলমারী বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন সাজিদা ইসলাম পারুল (লালশাড়ী পড়া), সমকালের চিলমারী প্রতিনিধি নাজমুল হুদা পারভেজ (রেইনকোর্ট পরিহিত) ও স্থানীয় লোকজন। কিছুক্ষণ পর বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেন প্লাবনের বাবা মো. সামছুল হক। পারুল এগিয়ে গিয়ে পায়ে সালাম করলে সামছুল হক সালাম গ্রহণ করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন এবং সেখান থেকে দুজন কথা বলতে বলতে হেটে রাস্তায় আসেন। পুরুলকে বলতে শোনা যায়-‘আমি প্লাবনের বউ, এপ্রিলের ২তারিখে বিয়ে হয়েছে।’ প্লাবনের বাবা বলেন, ‘ছেলে তো আমাদের জানায় নাই’। পারুল বলেন, ‘আপনার ছেলে জানে, ফেসবুকে সবাই জানে’। সামছুল হক বলেন, ‘ফেসবুকে সবাইকে জানাইলা, আমরা তো জানলাম না। এসময় পারুল বিয়ের দলিল আছে জানিয়ে প্লাবনের বাবাকে মোবাইল ফোনে বিয়ের ছবি দেখান। ভিডিওতে দেখা না গেলেও প্লাবনের বড় ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও রমনা ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে তাকে পারুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন চিলমারী সমকাল প্রতিনিধি। ভিডিওটিতে আরো শোনা যায়, আব্দুল আজিজ মেয়ের পরিচয় জানতে চাইলে পারুল বলেন, ‘আপনি আপনার ভাইয়ের বউরে চেনেন না? আমি প্লাবনের বউ।’

এসময় প্লাবনের বাবা বলেন, ‘জানলাম না শুনলাম না বিয়ে হলো। এটা তুমি আর সে জানো। তোমার তো গার্ডিয়ান আছে। গার্ডিয়ান নাই? তারা তো আমাদের বলতে পারত।’ এসময় সমকালের চিলমারী প্রতিনিধি পারুলকে স্থানীয় লোকজনের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং বিয়ের বিষয়টি অবিহত করেন। বিয়ের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনও জানেন না বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়। ভিডিও’র ৩মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের পর পারুলকে বলতে শোনা যায় কেন সে চিলমারী এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি যে প্লাবনের বিয়ের প্রস্তুতি চলতেছে, আমি চলে এসেছি।’ এসময় প্লাবনের বাবা বলেন, ‘এতোদিন আসোনি কেন, আজকে কেন তুমি আসলে?’ পারুল বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে আসতে নিষেধ করেছে। বলেছে দুইমাস পর আপনারা যাবেন। আমি তো আমার হাসবেন্ডের কথা শুনব। কোরআন শরিফ এনে বলেছে। বারোশ’ পরিবারকে চাল দেবে বলে বৃহস্পতিবার অফিসে ছুটি না নিয়েই চলে আসছে। সে বলেছে, এটা শেষ হলেই চলে যাবে। কিন্তু কালকে (৪ মে) শুনতে পেলাম যে, আমার হাসবেন্ডের বিয়ে ঠিক হইছে। তো আমি কিভাবে থাকব ঢাকায়? সে তো আমার স্বামী। আমি তো চাই আমার স্বামীর সাথে আমার সংসার হোক, সমঝোতাটা হোক।’ এসময় এলাকাবাসী পারুলের কাছে জানতে চান, ‘আপনি কার কাছে শুনেছেন যে কালকে প্লাবনের বিয়ে?’ পারুল বলেন, ‘এই এলাকার লোকজনই বলেছে।’

এসময় এলাকাবাসী তাদের নাম জানতে চাইলে পারুল নিরব থাকেন। ভিডিও’র ৪মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে দেখা যায়, প্লাবনের বড় ভাই আব্দুল আজিজ বলছেন-‘এদের তো ডিভোর্জ হয়ে গেছে।’ এসময় সমকালের চিলমারী প্রতিনিধি পারভেজ বলেন, ‘তাহলে প্রমাণিত হলো যে, পারুল প্লাবনের বউ। বিয়ে না হলে ডিভোর্স হয় কিভাবে।’

এসময় প্লাবনের বাবা বলেন, ‘আমরা তো বিয়ে অস্বীকার করিনি, বলেছি বিয়ে হলো অথচ আমরা কিছুই জানি না।’

ভিডিও’র ৬মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের পর সমকাল চিলমারী প্রতিনিধি প্লাবনের বড় ভাই আব্দুল আজিজকে বলেন, ‘আপনি মানুষের বিচার করেন, আপনার ভাইয়ের বিচারটা আপনি কি করবেন সেটা আমরা দেখতে চাই।’ এসময় আজিজ মেম্বার বলেন, অবশ্যই করব। বিচার তো বিচারই। যখন হবে অবশ্যই দেখবেন।’ এসময় প্লাবনের চাচা বকুল মিয়া বলেন, ‘আমরা অনেক মেয়ে দেখালেও সে বিয়েতে রাজি হয় না। আজ আপনি সংবাদ পেয়ে এসেছেন, প্লাবন বিয়ে করছে, কিন্তু আদৌও আমরা জানি না। এখন যদি আপনার বিয়ে হয়ে থাকে, সাদরে আপনাকে আমরা বউ বলে মেনে নিয়ে ঘরে তুলে নেব। আপনারা ঘর করে খাবেন। কোনো অসুবিধা নাই।’ ভিডিও’র সাড়ে আট মিনিটের দিকে নাজমুল হুদা পারভেজ বিভিন্ন মেয়েকে জড়িয়ে প্লাবনের ফের বিয়ের কথা বললে এলাকাবাসী তার কথার প্রতিবাদ করেন। এসময় ঘরের বারান্দা থেকে প্লাবনের মা তার ছেলে বউকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠলে উপস্থিতি লোকজন তাকে থামতে বলেন। পরে কয়েকজন মহিলা তাকে বারান্দা থেকে ঘরের ভিতরে নিয়ে যান। ভিডিওটি শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই বিচারের ভার প্লাবনের বড় ভাই আব্দুল আজিজ মেম্বারের ওপর দিয়ে সমকালের চিলমারী প্রতিনিধি পারুলকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। সেসময় প্লাবনের চাচা বকুল মিয়া মেয়েকে বাড়িতেই থেকে যাওয়ার অনুরোধ করলে চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে কাজ আছে বলে জানান পারুল। সেদিন রাত একটা পর্যন্ত প্লাবনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার চাচা বকুল মিয়া পারুলকে বউমা সমন্ধন করে প্লাবনের বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

কিন্তু পারুল তার সমকাল অফিসের অনুমতি ছাড়া যেতে পারবেন না বলে তাকে জানিয়ে দেয়। পরের দিন ফের নাজমুল হুদা পারভেজের বাসায় মেয়েকে আনতে গেলে সেখানেও তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এদিন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যোগ ও বর-বধু বরণের প্রস্তুতি নিলেও সমকাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পারুল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এখন সুশীল সমাজ, নারী নেত্রী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতনমহলের কাছে চিলমারীবাসীর প্রশ্ন, ভিডিও’র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও কি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র উদ্ভব ঘটেছে? কোথাও কি দেখেছেন, প্লাবনের বাবা, মা, ভাইয়েরা পারুলকে চড়থাপ্পর, চুল ধরে টানা-হেচড়া করে তাকে আহত করেছে? ভিডিও’র শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কোথাও কি প্লাবনের পরিবারের কারো মুখে যৌতুকের ৫০ লাখ টাকা দাবি করতে শুনছেন? কিংবা পারুলকে মেনে না নেয়ার কোনো পরিস্থিতি কি সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল? সেখানে একটিবারের জন্য কি পারুল তার পেটের ভ্রুণের কথা বলেছেন? মামলার এজাহারে উল্লেখ করা-শাশুড়ির অসুস্থতার কথা শুনে চিলমারী আসে।

Comments

comments

Close