সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা বিভাগ, বিভাগীয় সংবাদ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাড়িতে চিফ হুইপ

দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাড়িতে চিফ হুইপ


পোস্ট করেছেন: ভোরের খবর ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 10/03/2020 , 12:11 pm | বিভাগ: ঢাকা বিভাগ,বিভাগীয় সংবাদ


এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পরও হতদরিদ্র পিতৃহীন সুমাইয়া ফারহানাসহ তার পরিবারে কোনো আনন্দ ছিল না। তাদের জরাজীর্ণ ঘরটিই জানান দিচ্ছিল ভালো ফলাফল করেও টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে সুমাইয়ার।

বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। তাৎক্ষণিক তিনি সুমাইয়ার বাড়িতে মিষ্টি পাঠান। মোবাইলে কথা বলে তার লেখাপড়ার যাবতীয় দায়িত্ব নেন। তাদের জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কারের আশ্বাস দেন।

সংস্কার শেষে সেই ঘরটি এখন টাইলস সমৃদ্ধ ও সম্পূর্ণ পাকা ঘর। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী অদম্য মেধাবী সুমাইয়ার বাড়িতে যান। খোঁজখবর নেন তার লেখাপড়ার। লেখাপড়া চালিয়ে যেতে দেন নির্দেশনা ও আশ্বাস।

নানা ব্যস্ততার মাঝেও একজন দরিদ্র মেধাবীর জন্য চিফ হুইপের এমন মানবিক আচরণে মুগ্ধ এলাকাবাসী। চিফ হুইপের এই উদ্যোগ দেশের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের জন্য শিক্ষামূলক বলে দাবি শিক্ষক সমাজের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় দর্জি দেলোয়ার হোসেন শ্বশুরের দেয়া জমিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের সাড়ে এগারো রশি লপ্তিকান্দি গ্রামে বসবাস শুরু করেন সাত বছর আগে। তিনি সংসার চালাতে ঢাকার সাভার, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দর্জির কাজ করেছেন। সাত বছর আগে ঘরের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্টে দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তার স্ত্রী সালেহা বেগম। নিজে ঘরে বসে দর্জির কাজ শুরু করেন। বড় মেয়ে তাসলিমা কেজি স্কুলে চাকরি করে মায়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন। মেয়ে-জামাইদের আর্থিক সহায়তায় কোনো মতে চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার। অর্থাভাবে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অল্প বয়সেই।

ছয় মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সুমাইয়া ফারহানা। অভাবের সংসারে সুমাইয়ার লেখাপড়া চালানোর সাহস পাচ্ছিল না তার মা। তবে লেখাপড়ার প্রতি সুমাইয়ার প্রবল টান থাকায় বোনদের সহায়তায় লেখাপড়া চলতে থাকে। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ টেলেন্টপুলে বৃত্তি পায় সুমাইয়া।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর মেধাবী সুমাইয়া বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে মন জয় করে ফেলে বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের। সুমাইয়ার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জেনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষও তাকে নিয়মিত খাতা, কলম, বই দিয়ে সহযোগিতা করে। তাকে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো শিক্ষক টাকা নেননি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত বৃত্তি প্রদানেরও ব্যবস্থা করে।

চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সুমাইয়া। পরীক্ষার ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে সে। এরপরও তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিল পরিবার। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করা পিতৃহীন সুমাইয়ার চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছবি। ডাক্তারতো অনেক দূরের কথা ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েই সংশয় ছিল তার।

সুমাইয়ার এমন অবস্থার খবর জানতে পারেন স্থানীয় সংসদ সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। গত ৯ জুন রাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি তার খবর নেন। পরদিন সকালে চিফ হুইপ সুমাইয়ার বাড়িতে মিষ্টি পাঠান। দুপুর ১২টার দিক ফোন দিয়ে সুমাইয়া, তার মা, বড় বোন ও স্কুলের শিক্ষকসহ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সুমাইয়ার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে কী কী প্রতিবন্ধকতা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা জানতে চান এবং তার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাদের পলেস্তারাবিহীন ঘর সংস্কার করে ফ্লোর টাইলস ও দরজা লাগানোসহ বাড়িতে সুপেয় পানির ব্যবস্থার নির্দেশনা দেন।

সেই ঘরটি সংস্কারের পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) চিফ হুইপ সুমাইয়ার বাড়িতে যান। দরিদ্র পরিবারের অদম্য মেধাবীর বাড়িতে চিফ হুইপের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকার শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়।

চিফ হুইপ সুমাইয়ার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মিষ্টি মুখ করান। চিফ হুইপ তার অর্থায়নে গড়ে দেয়া ঘরটি ঘুরে দেখেন। নির্দেশনা দেন সুমাইয়ার শিক্ষা জীবন নিয়ে।

সুমাইয়া ফারহানা বলেন, চিফ হুইপ স্যার আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের ঘর সংস্কার করে দেয়ায় ও বাড়িতে আসায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামসুল হক বলেন এমন উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বাল্যবিবাহ রোধ হবে। মেধাবীরা ঝরে পড়বে না। মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহ পাবে।

মাদবরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী সুলতান মাহমুদ বলেন, একজন দরিদ্র অদম্য মেধাবীর জন্য চিফ হুইপের এমন মানবিক আচরণে মুগ্ধ এলাকাবাসী। সারাদেশে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে অনেক অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী মানব সম্পদে পরিণত হবে।

চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। তিনি সবাইকে অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Comments

comments

Close