সর্বশেষ সংবাদ
শেয়ার বাজার দর সংশোধনের মাঝেও বেড়েছে সূচক ও বাজার মূলধন

দর সংশোধনের মাঝেও বেড়েছে সূচক ও বাজার মূলধন


পোস্ট করেছেন: ভোরের খবর ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 10/03/2020 , 4:59 pm | বিভাগ: শেয়ার বাজার


গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয় নেতিবাচক ধারায়। মোট পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে মাত্র দুই দিবস ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়। মৌল ভিত্তির বিমা খাতের শেয়ারদর সংশোধনের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে সব সূচক।

এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের সুবিধা বাড়িয়েছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার বাধ্যবাধকতায় শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এসব সিদ্ধান্তে আশাবাদী হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আর বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ডিএসইর সব সূচক।

গত ১ অক্টোবর শেষ হওয়া ডিএসইর লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। সাম্প্রতিক সময়ে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত হারে। কোনো কারণ ছাড়া মৌলভিত্তির এ খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির এমন প্রবণতাকে অস্বাভাবিক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকরা।

এ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারদর হুট করে বৃদ্ধি পাওয়ার নজির নেই। সমালোচনার পর গত সপ্তাহে এ খাতের শেয়ারদর কিছুটা কমে যায়। অনেকেই এটিকে শেয়ারদর সংশোধন বলছেন।

বিমা খাতের শেয়ারদর নেতিবাচক হওয়ার প্রভাব পড়ে ডিএসইর সূচক ও লেনদেনের ওপর। তিন কার্যদিবসেই প্রধান সূচকসহ সব সূচক পড়ে যায়।

আলোচিত সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দুটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। একটি হচ্ছে মার্জিন ঋণ সুবিধা, যা আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অপরটি হচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো মেয়াদ শেষে অবসায়ন হবে। শুধু ইউনিট হোল্ডারদের মতামত নিয়ে সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এজন্য গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ গেইনার দেখা যায় মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দরে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর।

পক্ষে যাওয়া এসব সিদ্ধান্তে সক্রিয় হয়ে ওঠেন প্রাতিষ্ঠানিকসহ ব্যক্তি পর্যায়ের সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা। অন্যান্য খাতে শেয়ার লেনদেন বাড়িয়ে দেন। দরপতন হলেও অনেকেই হাতছাড়া করেননি বিমা খাতের শেয়ার। এতেই শেষ কার্যদিবসে ঘুরে দাঁড়ায় সব সূচক। অতীতের তিন দিনের পড়ে যাওয়া সূচকের পরিমাণ এক দিনেই কাটিয়ে ওঠে। সপ্তাহ শেষে আগের সপ্তাহের চেয়েও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বৃদ্ধি পায় ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

একইসঙ্গে অন্য দুটি সূচকও ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ করে। বিমা খাতের শেয়ার লেনদেন কম হওয়ায় সামগ্রিকভাবে লেনদেন কম হয় আলোচিত সপ্তাহে। কিন্তু নতুন বিনিয়োগ আসায় বাজার মূলধন বেড়েছে ডিএসইর। আলোচিত সপ্তাহে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পায় ৮৭৪ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে গত সপ্তাহে তালিকাভুক্ত শেয়ারে গেইনারের ক্ষেত্রে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ গেইনার করে। পাশাপাশি ইতিবাচক ছিল এনবিএফআই চার দশমিক ৩৭ শতাংশ, ব্যাংক খাত এক দশমিক ১৪ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ২২ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রায় এক শতাংশ।

অপরদিকে গত সপ্তাহে জীবন বিমা খাতে আগের চেয়ে লোকসান দেখা গেছে চার দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ বিমারও শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ লোকসান দেখা যায়। এছাড়া লোকসান গুনতে হয় টেলিকম খাতে এক দশমিক ২২ শতাংশ ও খাদ্য খাতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৬৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সপ্তাহ শেষে শেয়ার দর বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১৯২টির; অপরদিকে অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দর। এ সময়ে লেনদেন হয়নি চারটির।

তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে আলোচিত সপ্তাহে লেনদেনে অবদান ব্যাংক খাতের ছয় দশমিক ৯ শতাংশ, এনবিএফআইয়ের ২০ দশমিক তিন শূন্য ছয় শতাংশ, সাধারণ বিমার ২৭ দশমিক দুই শতাংশ ও সাধারণ বিমা খাতের ছয় শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ লেনদেন হয় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির। আর শেয়ারদর বৃদ্ধিতে শীর্ষ দশে উঠে আসে ওয়ালটন হাইটেক ও এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। অপরদিকে একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদর হারিয়ে শীর্ষ দশেল তালিকায় উঠে আসে তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং, রিংসান ক্সেআটাইল, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল ও ফামেলি টেক্স।

Comments

comments

Close